খন্ডকালিন পাষন্ড শিক্ষক কর্তৃক ৫ম শ্রেণীর ছাত্রকে বেধড়ক বেত্রাঘাত

স্টাফ রিপোর্টার \ ঈশ্বরদী সাউথ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র রাফসান (১১) একই বিদ্যালয়ের খন্ডকালিন শিক্ষক উত্তম কুমার দাস (৩৪) এর নিকট প্রাইভেট পড়ে। গত বৃহষ্পতিবার এই শিক্ষক কর্তৃক বেধড়ক বেত্রাঘাতে শিশু রাফসান অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ঐ শিক্ষক তার থানাপাড়া রহমান কলোনীস্থ বাড়ি হতে তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে দেয়। কোনোভাবে রাফসান তার শহীদ আমিনপাড়াস্থ বাড়িতে এসে পৌছালে তার মা ফরিদা পারভিন ছেলের অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত ঈশ^রদী সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। রাফসানের বাবা ইলেক্ট্রেশিয়ান রকিবুল ইসলাম রকিব (৩৬) খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটি আসেন এবং পরে চিকিৎসা শেষে ছেলেকে নিয়ে ঈশ^রদী থানায় গিয়ে এই বর্বরোচিত নির্যাতনের বিচার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী সাউথ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালিন শিক্ষক উত্তম কুমার দাসের নিকট গত ২৩ মে সকাল ৯টায় রাফসান প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট পড়ার সময় পড়ার ফাঁকে সামান্য বিষয় নিয়ে শিক্ষক উত্তম দাস বেত দ্বারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ী বেত্রাঘাত করে ফোলা, কালশিরা ও থ্যাতলানো জখম করে। রাফসানকে মারতে মারতে বেঞ্চের নিচে ফেলে দিলেও মার না থামিয়ে বেত্রাঘাত করতেই থাকে। সেখানে উপস্থিত অন্য ছাত্রদের ভাষ্যমতে, আনুমানিক ২৫/৩০ বার বেত্রাঘাত করেছে।
উত্তম দাসকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি এই নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাফসান তখন আমার মুখে মুখে তর্ক করছিল। আমি বেতের ভয় দেখালেও ‘ও’ হেসে হেসে বলছিল ‘আপনারতো ভাঙা বেত, আমাকে কিভাবে মারবেন’। এমন কথা শুনে আমি আমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বেত দিয়ে ৯/১০টা মেরেছি। আমি অন্যায় করেছি। মীমাংসা করার জন্য চেষ্টা করছি। আমি ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমারের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
রাফসানের মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, আমি কোনো মীমাংসা চাইনা। আমি ঐ পাষন্ড শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো শিশু এই পাষন্ড শিক্ষক দ্বারা নির্যাতিত না হয়।

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial