দৈনিক কালের কণ্ঠ ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

গত ৩০ নভেম্বর/২০২৩ ইং রোজ বৃহস্পতিবার ১২ নং পৃষ্ঠায় দৈনিক কালের কণ্ঠে “ঈশ্বরদী বিএসআরআই ডিজি অনিয়মের রাঘব বোয়াল” শিরোনাম ও ২ ডিসেম্বর শনিবার দৈনিক মানবজমিনে “বিএসআরআই ডিজির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ দুটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সংবাদ দু’টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
সিন্ডিকেট এই সংবাদ দু’টিতে ‘প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এম.এ. রহমান’ অভিযোগ করেন বলা হয়েছে। বাস্তবে এমন নামের কোনো ব্যক্তি উক্ত প্রতিষ্ঠানে নেই। একটি কাল্পনিক অভিযোগকারী বানিয়ে এই মিথ্যা সংবাদ রচিত হয়েছে। যেখানে অভিযোগকারীর অস্তিত্ব থাকেনা সেখানে অভিযোগের গ্রহণ যোগ্যতা কোথায়? দৈনিক কালের কন্ঠের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি শেষ মেহেদী হাসান প্রায়শই এই প্রতিষ্ঠানে এসে বিভিন্ন সময়ে বিনা কারণে বিভিন্ন অনৈতিক আবদার করে থাকেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি করা ফাঁসির আসামী জাকারিয়া পিন্টুর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত।
দৈনিক মানবজমিনের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি রিয়াদ ইসলাম প্রতারক, ব্লাকমেইলার ও পুলিশের সোর্স হিসেবে এলাকায় পরিচিত। প্রবাসী সেজে তরুনীর সাথে প্রতারণা করা, জনৈক ডাক্তারের কাছ থেকে ভুয়া পোর্টাল তৈরির অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া, ব্লাকমেইল করা এর প্রধান কাজ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য তারা দু’জন সব সময় আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে থাকেন।
তারা যদি সাংবাদিকতার নুন্যতম নিয়মটিও মানতেন তাহলে অন্তত অভিযোগকারীর সাথে কথা বলে অভিযোগের বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাই করতেন। কিন্তু তারা কি তা করেছেন। করবেন কিভাবে, বাস্তবে অভিযোগকারীর কোনো অস্তিত্ব নেই।
তারা সংবাদে উল্লেখ করেছেন আমি নাকি এই প্রতিষ্ঠানে হরিলুট করে ঢাকার পূর্বাচলে পাঁচ কাঠা এবং ঈশ্বরদী পৌরসভায় ১০ কাঠা জমি কিনেছি? এই প্রতিষ্ঠানে আমার চাকরির বয়স এক বছরও হয়নি। অথচ এর মধ্যে এতো জমি কিনে ফেললাম! ঢাকার পূর্বাচলে গত ২০২০ সালে ৯জন মিলে ৫ কাঠা জমি কিনেছি। আমি ভাগে আধা কাঠার একটু বেশি পেয়েছি। ঈশ্বরদীতে বাড়ি করার জন্য পোনে ৪ কাঠার মত (৬.১৭ শতাংশ) একটি জমি কিনেছিলাম সেই ২০০৯ সালে। এই দুইজন সাংবাদিক সংবাদ করার আগে এটি একবারও কি যাচাই করবেন না যে জমি কত সালে কেনা।
বিএসআরআই এর মহাপরিচালকের নামে গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সেই গাড়ি ব্যবহারের কৈফিয়ত কি ঐ দুই সাংবাদিককে দিতে হবে। তবুও বলতে চাই- সরকারী গাড়ি সরকারী কাজেই নিয়ম মাফিক চালানো হয়। কোথাও যাওয়ার আগেই সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে আমাকে যেতে হয়। বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকতো মহাপরিচালক বানায়না, এটা বানায় কৃষি মন্ত্রণালয়। অধিকন্তু, চলমান প্রকল্প ২টির প্রকল্প পরিচালকদের বয়স ৩ বছর চলমান আর আমার চাকরি এই প্রতিষ্ঠানে এথনো এক বছর পূর্ণ হয়নি। তাহলে কিভাবে আমি ৩ বছর অতীতে গিয়ে কাউকে প্রকল্প পরিচালক বানালাম। মিথ্যাচারেরও তো একটা সীমা থাকা উচিৎ। এই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের মধ্যে থেকেই প্রকল্পের পরিচালক বানিয়েছে মন্ত্রণালয় এবং এটাই নিয়ম। এতেও ঐ সাংবাদিকদ্বয়ের সমস্যা!
‘ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে গাছের চারা রোপণ, মেরামত, যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ক্রয়ের নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ’ নাকি আমি করেছি। তো এই অভিযোগের সঠিক কোনো প্রমাণ নিশ্চই থাকার কথা। সেটির কেন উল্লেখ করেননি ঐ সাংবাদিকদ্বয়?
‘গাড়ির জ্বালানি ও চালকের ওভারটাইমের নামে অর্থ উত্তোলন করেন এমন কথা সংবাদে প্রকাশ করেছেন। কতখানি অপরিপক্ক কথা। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে প্রতিষ্ঠানের চালকদের সাক্ষাৎকার নিতে হবে। তারা কেন নেননি? চালকরা কিভাবে তাদের নিজ বিল নিজেরা করে সেটি অন্তত একবার এঐ সাংবাদিক দু’জনের দেখার বা জানার প্রয়োজন ছিল। কতখানি অনভিজ্ঞ হলে তিনারা লেখেন যে, সরকারি কর্মদিবসের ২৫০ দিনের মধ্যে প্রায় ১৫০ দিন ভ্রমণে, অফিস করেছি মাত্র ৩২ দিন! কি ভয়ংকর কথা।
একজন ডিজির কাজের বিস্তরতা, ব্যাপকতা এবং ব্যস্ততা সম্পর্কে ঐ সাংবাদিক দু’জনের কি নুন্যতম ধারণা আছে? মাসে একদিন ছুটি নিতে হলে এক সপ্তাহ আগে থেকে কাজের সিডিউল সাজাতে হয়।
সংবাদ দু’টির মিথ্যাচার বলে শেষ করা যাবেনা।

যাহোক প্রকাশিত এই মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ দু’টির তীব্র নিন্দা, ঘৃনা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ড. মো. ওমর আলী
মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব)।
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঈশ্বরদী, পাবনা।

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial