আল্লা মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই..
স্টাফ রিপোর্টার// ‘আল্লা মেঘ দে, পানি দে ছায়া দেরে তুই, আল্লা মেঘ দে..’ আব্বাস উদ্দীনের গানের এই সুর ধরে গতকাল বৃহষ্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঈশ্বরদীর মধ্য অরন কোলা ঈদগাহ মাঠে বৃষ্টি নামানোর আশায় এলাকাবাসীরা আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। শিশু কিশোররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেচে গেয়ে পানি ছিটিয়ে চাল ডালও সংগ্রহ করেছে বনভোজনের জন্য। ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইউসুফ আলী প্রধানের আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম সম্পাদক ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু।
বাঙালির অতি প্রাচীন এই সংস্কৃতির দেখা মিলেছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করার কারণে। সপ্তাহ জুড়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে এই অঞ্চলে। গত কয়েক মাস বৃষ্টির দেখা মিলেনি। গত সোমবার (১৭ এপ্রিল) এখানে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল যা এ মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ। গত মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দাঁড়িয়ে মুসুল্লিরা ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বৃষ্টির জন্য ইস্তিসকার নামাজও আদায় করে। তীব্র তাপপ্রবাহে এই উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে গেছে।
বৃষ্টির কোন পূর্বাভাসও দিতে পারছে না আবহাওয়া অফিস। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে অস্বাভাবিক নিচে। প্রায় ৯৫ ভাগ অগভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। গভীর নলকূপ হতে লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকার নারী পুরুষদের। ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাহাবুব ইসলাম জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫ ফুটের নিচে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে পানির স্তর স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) হেলাল উদ্দিন বলেন, আগামি ৩/৪ দিনে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। এসব সমস্যার সমাধানে আকাঙ্খিত বৃষ্টির প্রত্যাশায় দীর্ঘ সময় পর বাঙালির প্রাচীন এই সংস্কৃতির দেখা মিলেছে।

