ফলোআপ- আখের সাথে সাথী ফসল চাষে ভাগ্য ফিরতে শুরু করেছে কৃষকের
স্টাফ রিপোর্টার // ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদেরকে সহায়তাকল্পে ‘‘আখের সাথে সাথী ফসল হিসাবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্প’’ নামে ৩ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থ বছর হতে শুরু হয়েছে। ১৫টি সুগার মিল এলাকায় এই প্রকল্প কাজ করছে।
এ বিষয়ে স্ব-কাল বাংলায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে।
বিএসআরআই এর মহাপরিচালক ড. মো. আমজাদ হোসেন বলেন, সাথী ফসল চাষ করিয়ে কৃষকদের আর্থিক ভাবে লাভবান করানোই হচ্ছে এই প্রকল্পের মুল লক্ষ্য।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবু তাহের সোহেলের কাছে প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বারবার সঠিক তথ্য আপনাদেরকে সরবরাহ করছি অথচ এই প্রকল্প নিয়ে আপনাদের গোত্রেরই চিহ্নিত ৩জন সাংবাদিক অনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে মনগড়া কাল্পনিক তথ্য দিয়ে মিথ্যাচার করছে। পুরো সংবাদ জুড়েই তাদের মিথ্যাচার আর মুর্খতার ষ্পষ্টতা দেখা যায়। তাদের সংবাদের ভাষ্য- ‘প্রদর্শনী প্লট তদন্ত ও পিডি প্রত্যাহারের দাবি’। কারা দাবি করলো, নাম নেই! দাবি কি তার নিজের ? কৃষকের উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকের নিজের কাল্পনিক কথা বলেছে। সংবাদে ৪৪৯টি প্লটের একজন কৃষকেরও নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই, কেন? এটা কেমন সাংবাদিকতা ? ঘরে বসেই রিপোর্ট ? আমার সাথে কোনো কালেই জনৈক সাংবাদিকের কোনো প্রকার কথা হয়নি। অথচ আমার বক্তব্য ছেপেছে! ঐ সাংবাদিক কি প্রমান করতে পারবে আমার সাথে ফোনে বা সাক্ষাতে কখনো ১ সেকেন্ডের জন্যও কথা হয়েছে ? ঐ সাংবাদিক ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের তথ্য কোথা থেকে পেলো ? এতেই তো প্রমানিত হয় কাল্পনিকতার রং কিভাবে লাগিয়েছে। সাংবাদিক হলেই যে কাউকে জিম্মি করে ফেলবেন এমন ধারনা ঠিক নয়। মিথ্যাচারিতা করলেও সাংবাদিকের কোনো জবাবদিহিতা নেই এমনটি ভাববেন না। ঐ সাংবাদিকদের নাম বলতে চাচ্ছিনা তবে আইনের আশ্রয় নিতে আমাকে বাধ্য করা হচ্ছে এতটুকু বলতে পারি।
প্রতি প্লটে কৃষককে কত টাকা দিতে হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি বারবারই বলছি- কৃষককে কোনো টাকাই দেয়া হয়না। ৩ হাজার কিংবা ৩০ হাজারের কোনো বিষয় নেই। সার, কীটনাশক, বীজ, মসলাসহ চাষাবাদ সামগ্রী আলাদা আলাদা ভাবে ক্রয় করে কৃষককে সরবরাহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃষক নিজেই শ্রমিকের কাজটা করতে চান। সেক্ষেত্রে কীটনাশক প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, নালা তৈরি, ফসল সংগ্রহে শ্রমিকের মজুরী বাবদ যেই অর্থটি বরাদ্দ করা হয় সেটি কৃষককে দিয়ে দেই। স্পস্ট ভাষায় বলছি- এখানে প্রকল্প পরিচালক কোনো খরচ করেননা। বিএসআরআই এর সকল বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে কমিটি করা। তারাই খরচাদি করে থাকেন।
উপকারভোগী কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপ করলে তারা এই প্রকল্পে যথেষ্ট উপকারী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। নাটোরের কৃষক গোলাম রসুল বলেন, আমি ১ বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আখের সাথে সাথীফসল রসুন চাষ করে ৩০ মণ রসুন পেয়েছি যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। রসুন উত্তোলনের পর ২য় সাথীফসল মুগডাল চাষ করে ৩ মণ মুগডাল পেয়েছি। এছাড়াও আমি ১ বিঘা জমি থেকে বিএসআরআই আখ ৪২ (রংবিলাশ) জাতের ৮০০০ টি চিবিয়ে খাওয়া আখ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছি। যা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা ও সাংসারিক ব্যয় মিটাচ্ছি। রাজশাহীর কৃষক আমিন উদ্দিন সরকার বলেন, প্রকল্প থেকে সাথীফসল ও আখ চাষের যাবতীয় খরচ পেয়েছি। আমি ১ বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আখের সাথে সাথীফসল পেঁয়াজ চাষ করে প্রায় ৫০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছি যার বাজার মূল্য অর্ধ লক্ষ টাকার উপরে। এছাড়াও আখ বিক্রি করে ভালো লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও উপকারভোগী কৃষকরা বলেছেন, এমন প্রকল্প চলমান থাকলে অনেকেই আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং আখের আবাদ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

