বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট— ড. ইসমাৎ আরা এখন কোন দলে ?
স্টাফ রিপোর্টার \ ২০২২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয় (সিরাজগঞ্জ-১) এর ডিও লেটারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর) পদে আসীন হন ড. মোছাঃ ইসমাৎ আরা। সাবেক ও প্রয়াত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয় ডিও লেটারে উল্লেখ করেন- ড. মোছাঃ ইসমাৎ আরা আমার নির্বাচনী এলাকার গান্ধাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী মরহুম খোশলেহাজ উদ্দিন সরকারের মেয়ে। তিনি ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর পরিবারের সকলেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। ‘‘তিনি আওয়ামী রাজনীতির বিবেচনায় বিএসআরআই এর বিদ্যমান জেষ্ঠ্যতার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন’’। বিধায় তাঁকে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরিচালক পদে পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে।

একই ভাবে ২০২৪ সালে বিএসআরআইতে মহাপরিচালক পদে আসীন হওয়ার জন্য ‘‘আওয়ামী রাজনীতির বিবেচনায় বিএসআরআই এর বিদ্যমান জেষ্ঠ্যতার তালিকায় প্রথম অবস্থানে আছেন’’ উল্লেখ করে তানভীর শাকিল জয় এর আরেকটি ডিও লেটার কৃষি মন্ত্রনালয়ে পেশ করা হয়। ২০২২ সালে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক দুই এমপির সুপারিশে তাঁকে পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর) পদে পদায়ন করলেও চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মন্ত্রী পরিবর্তন হওয়ায় নতুন দেয়া ডিও লেটার কাজে আসেনি, এখানে গত ১০ জুলাই মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) এর দায়িত্বে থাকা ড. ফেরদৌসী ইসলাম।
গত ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হওয়ার পর ড. মোছা. ইসমাৎ আরা সুর পরিবর্তন করতে শুরু করেছেন, গাইছেন ভিন্ন গান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র সুর বাজছে তাঁর কন্ঠে। ভিন্ন সুর শুনতে পেরে প্রতিষ্ঠানের অনেকেই বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। স্বার্থের প্রয়োজনে এতো দ্রুত পাল্টানো যায় ? এমন প্রশ্ন করেছেন প্রতিষ্ঠানের অনেকেই। আগামী মাস দুয়েকের মধ্যে বিএসআরআইতে নতুন মহাপরিচালকের নিয়োগ হবে। ড. মোছা. ইসমাৎ আরা তার বর্তমানের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর) পদটি ধরে রাখা এবং আগামীতে মহাপরিচালক হওয়ার অভিপ্রায়ে দল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন বলেও কয়েকজন বিজ্ঞানী মন্তব্য করেন।
ড. মোছা. ইসমাৎ আরার বিরুদ্ধে বিজ্ঞানীরা লিখিত ভাবে প্রায়ই নানা অভিযোগ করে থাকেন কৃষি মন্ত্রনালয়ে।
জেষ্ঠ্যতার তালিকায় তার সিরিয়াল দেখিয়েছেন ২ নম্বরে, কিন্তু তিনি রয়েছেন ৮ নম্বরে। তিনি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে উর্ধ্বতন মহলে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর) হয়েছেন। তার মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের কারনে বিএসআরআই এর চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গেছে যা চাকুরীর শৃঙ্খলা পরিপন্থী একটি অপরাধ। ইতোপূর্বে এতো নিচের সিরিয়াল থেকে কেউ পরিচালক পদে আসীন হননি।
তিনি এই পদে আসার পর হতে আজ অব্দি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিভাগ ও বিভিন্ন উপকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রমে গতি আনতে সম্পুর্ন ব্যর্থ হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা অভিযোগ করে আসছেন প্রতিনিয়ত। ‘‘তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কোন কাজ জানেন না-বুঝেনও না এবং করেনও না। ওনার একটাই কাজ টেবিলে টেবিলে ঘুরে খোশগল্প ও তোষামোদ করা’’ এমন ভাবেই মন্তব্য করেন কয়েকজন বিজ্ঞানী।
প্রায় প্রতি মাসেই বিএসআরআইয়ের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা কৃষি মন্ত্রনালয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দাখিল করে থাকেন এবং সেই অভিযোগের ফিরিস্থি অনেক লম্বা।
এসব বিষয়ে জানতে ড. মোছা. ইসমাৎ আরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

