আখের সাথে সাথী ফসল চাষে ভাগ্য ফিরতে শুরু করেছে কৃষকের
স্টাফ রিপোর্টার // ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদেরকে সহায়তাকল্পে ‘‘আখের সাথে সাথী ফসল হিসাবে ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্প’’ নামে ৩ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থ বছর হতে শুরু হয়েছে। ১৫টি সুগার মিল এলাকায় এই প্রকল্প কাজ করছে।
বিএসআরআই এর মহাপরিচালক ড. আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক ইঞ্চি জমিও যেন অব্যবহৃত হয়ে পড়ে না থাকে। দেশের খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই কথার তাৎপর্য বলে শেষ করা যাবেনা। আখ একটি দীর্ঘ মেয়াদী ফসল। তাৎক্ষনিক অর্থ না আসায় কৃষকরা তাই দিনদিন আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। আখ চাষে দুই সারির মধ্যবর্তী স্থানের ফাঁকা জমি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকে। ঐ ফাঁকা জমিতে সাথী ফসল হিসেবে ডাল, মসলা, সবজি চাষ করিয়ে কৃষকদের আর্থিক ভাবে লাভবান করানো হচ্ছে এই প্রকল্পের মুল লক্ষ্য।
এই প্রকল্পের কারণে কৃষকরা সাথি ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জেগেছে।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও এই প্রকল্পের পিডি আবু তাহের সোহেল বলেন, আখ আমাদের দেশের খাদ্য ও শিল্পে ব্যবহার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল। যা জমিতে প্রায় ১৩-১৪ মাস থাকে। উপরোন্তু তুলনামূলকভাবে আখের মূল্য না বাড়ার কারণে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে দিনদিন আখ চাষের জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। সাথে সাথে তুলনামূলকভাবে নিম্নমানের জমিতে আখের চাষ করা হচ্ছে। ফলে আখের ফলন দিনকে দিন কমেই যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে সার্বিকভাবে দেশের চিনি শিল্পের ওপরে। তাই আখ ফসলকে এ বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য আখের সাথে আরেকটি স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ করে কৃষক ও এই শিল্পকে রক্ষা করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য। আখের সাথে সাথি ফসল হিসেবে আমরা ডাল জাতীয় ফসলের মধ্যে মটরশুঁটি, ছোলা, মশুর, মুগ ইত্যাদি। মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন রয়েছে। কৃষকরা বিভিন্ন সবজি চাষও করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে পিডি আবু তাহের সোহেল বলেন, সুগার মিলের আখ চাষীরা শুধুমাত্র আখ চাষেই অভ্যস্থ। তাদেরকে বেশি করে সাথী ফসলের প্রদর্শনী করে সরেজমিন বুঝাতে হয়েছে। ফলে চলতি বছরে ২ কোটি ২ লাখ টাকা বাজেটের ৮৫% অর্থ ব্যয় হয়েছে প্রদর্শনী ও মাঠ দিবস বাবদ। ২০২১-২২ মৌসুমে ৪৪৯ জন কৃষকের জমিতে প্রদর্শনী প্লট করা হয় এবং এই প্লটের খরচ বিএসআরআই এর সমস্ত বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত করে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে করা হয়। ১৫টি সুগার মিল এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রতি প্লটে কেমন খরচ এমন প্রশ্নের উত্তরে পিডি বলেন, এলাকা অনুযায়ী আবহাওয়া ও কৃষকের চাহিদা মোতাবেক তার জমিতে সাথি ফসল আবাদের ব্যবস্থা করা হয়। ভিন্নতা বুঝে কোথাও ডাল, কোথাও সবজি, কোথাও মসলা জাতীয় ফসল চাষের ব্যবস্থা করা হয়। বীজের মুল্যের উঠানামা বা কমবেশি থাকায় একেক প্লটে একেক বাজেট হয়। ১ বিঘা জমি চাষের জন্য একজন কৃষককে এই সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে।
কৃষককে কত টাকা দিতে হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কৃষককে নগদ টাকা দেয়া হয়না। তবে যদি সে নিজে সেচ দিতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে সেচের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থটি আমরা দিয়ে দেই।

সার, কীটনাশক, বীজ, মসলাসহ চাষাবাদ সামগ্রী আলাদা আলাদা ভাবে ক্রয় করে কৃষককে সরবরাহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃষক নিজেই শ্রমিকের কাজটা করতে চান। সেক্ষেত্রে কীটনাশক প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, নালা তৈরি, ফসল সংগ্রহে শ্রমিকের মজুরী বাবদ যেই অর্থটি বরাদ্দ করা হয় সেটি কৃষককে দিয়ে দেই। সাথি ফসল চাষে কৃষককে সকল সামগ্রী সরবরাহ করা এই প্রকল্পের কাজ। নেট, বাঁশ, সাইনবোর্ডসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকল কিছুই কৃষককে সরবরাহ করতে হয়। এখানে পিডি কোনো খরচ করেননা। বিএসআরআই এর সকল বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে কমিটি করা আছে। প্রতিটি প্লটের পৃথক কমিটি রয়েছে। তারা নিজ নিজ প্লটে অর্পিত দায়িত্ব পালন ও খরচাদি করে থাকেন।
কয়েক কৃষকের সাথে আলাপ করলে তারা এই প্রকল্পে যথেষ্ট উপকারী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আগামী বছর আরো ভালো ফসল ঘরে উঠাতে পারবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


