আখ শিল্পকে রক্ষার্থে সরকারের পাশাপাশি কৃষকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে— বিএসআরআই মহাপরিচালক ড. ওমর আলী
স্টাফ রিপোর্টার// আখ শিল্পকে গতিশীল করতে সরকার সাথী ফসলের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলও আমরা পাচ্ছি। চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় এখন প্রচুর আখ চাষ হচ্ছে। শুধু প্রনোদনা দিয়ে কৃষককে স্বাবলম্বি করা সম্ভব নয়। প্রনোদনা কোনো এক সময় শেষ হবে যাবে। কিন্তু কৃষককে যদি সবসময় লাভবান অবস্থায় রাখতে তার নিজ শক্তির ভীত গড়ে দিতে পারি, প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারকারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের দেশ কৃষিতে শীর্ষে পৌছাবে। আর এর জন্য সরকারের পাশাপাশি কৃষককে তার নিজ ইচ্ছা শক্তি বাড়াতে হবে। যেই কৃষক ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ করে সেই কৃষক ২ বিঘায় আখ চাষ করলে আরো বেশি লাভবান হবে।
সোমবার (২৭ মার্চ) সকালে ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. মোঃ ওমর আলী একথা বলেন।
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশীজনের অংশগ্রহণে ইক্ষুজাতের প্রধান প্রধান ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে আধুনিক কলাকৌশল শীর্ষক এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (টিওটি) ইসমৎ আরা।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিচালক (গবেষণা) ড. কুয়াশা মাহমুদ ও নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ভূইয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কীটতত্ব বিভাগের প্রধান ড. আতাউর রহমান। সঞ্চালনা করেন প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান।
কর্মশালায় প্রশ্নত্তোর পর্ব ও বিজ্ঞানীদের বক্তব্যে জানা যায়, মিলজোন ও ননমিলজোন এলাকায় ২০২০-২১অর্থবছরে ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে কমে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। একবছরের ব্যবধানে আবাদ কমেছে ৪২ ভাগ। এরইমধ্যে দেশে ৬ টি চিনিকল বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে চিনির দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। বৈশ্বিক কারণে আখ চাষের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ইরিগেশন (সেচ) ব্যয় বেড়েছে ৩০-৪০ ভাগ। শ্রমিকের মজুরি ২৫০-৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা।
কর্মশালায় বিভিন্ন বিজ্ঞানী, চিনিকলের প্রতিনিধি ও আখচাষীরা অংশগ্রহণ করেন।

