ড. মো. ওমর আলীর বিদায় সংবর্ধনা: বিএসআরআইয়ের ইতিহাসে বিরল ঘটনা
স্টাফ রিপোর্টার // গতকাল ১২ জুলাই বৃহষ্পতিবার বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ ওমর আলীকে অবসর কালীন বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিকবৃন্দরা। বিএসআরআই এর ইতিহাসে এমন এটি একটি বিরল ঘটনা। অতীতে এমন বিদায় সংবর্ধনা কোনো মহাপরিচালককে দেয়া হয়নি। বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী আভ্যন্তরীন কোন্দল থাকায় মহাপরিচালকরা বিদায় বেলায় দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে অসম্মানজনক ভাবে অপমানিত হয়ে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতেন। এই অপসংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু এবার এই অপসংস্কৃতির ব্যত্যয় ঘটেছে। কাজ প্রিয় ড. মো. ওমর আলীর ভালোবাসা সকলেরই মন জয় করতে পেরেছে বিধায় সকলে মিলে তাঁকে এই সংবর্ধনা দিলো। বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা—কর্মচারীরা আলাদা আলাদা ভাবে তাঁকে ফুলের তোড়া, ক্রেস্ট, নানা ধরনের সামগ্রী উপহার দেন।
অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (গবেষণা) ড. কুয়াশা মাহমুদ। সঞ্চালন করেন সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফি আল মামুন।
২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর ১৬তম মহাপরিচালক হিসেবে এখানে যোগদান করেছিলেন ড. মোঃ ওমর আলী। গতকাল ১২ জুলাই তাঁর শেষ কর্মদিবস ছিল।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাঈদা খাতুন, ড. মো. আতাউর রহমান, ড. গাজী মো. আকরাম হোসেন, ড. কোহিনুর বেগম, ড. তোফায়েল আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান, ড. মো. রহিমুল আলম, উধ্বর্তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম, রাশেদুল ইসলাম পাভেল, সাইয়ুম হোসেন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নুসরাত জাহান উপমা, উপ—প্রধান হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল বাকী, ইক্ষু গবেষণা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান, কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, সহ—সভাপতি সাখাওয়াত আলী প্রামানিক, প্রকল্পের কর্মচারী মাহবুব আলম প্রমুখ। এসময় প্রতিষ্ঠানের সকল বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, কৃষিবিদ ড. মো. ওমর আলী বিনা চাষে মসুর ডাল উৎপাদনের উপর গবেষণা করে ২০১১ সালে কৃষিতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ডাল গবেষণা উপ—কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর এ মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত কারণে তিনি আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা, চীন, জার্মান, ডেনমার্ক, সুইডেন, মরক্কো, ভারত, থাইল্যান্ড, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং নেপালসহ অনেক দেশ ভ্রমন করেন। তিনি ডাল ফসলের উন্নত জাত আবিস্কারের বিশেষ সফলতা অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ ১৪২৪ (প্রদানকাল ১৪২৮) প্রাপ্ত হন এবং বাংলাদেশে মসুর ডাল গবেষণায় সাফল্যের জন্য ২০০৪ সালে ইকার্ডা (ICARDA), সিরিয়া কর্তৃক পুরস্কৃত হন।
তিনি মুগের উন্নত জাত বারি মুগ—৬, বারি মুগ—৭, বারি মুগ—৮ সহ মোট ৭৪টি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। তাঁর এসমস্ত প্রযুক্তি দেশ—বিদেশে বেশ সমাদৃত ও সম্প্রসারিত। ২০২৪ সালে ‘বঙ্গবন্ধু থেকে বঙ্গকন্যা— আমাদের আছেন একজন শেখ হাসিনা’ তাঁর লিখা সর্বশেষ গ্রন্থ। ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ তাঁর ৪র্থ কাব্যগ্রন্থও সারাদেশে ব্যাপক সমাদৃত। এছাড়া দেশী/বিদেশী জার্নাল, বইসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত পেপারের সংখ্যা ৪৬২টি। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভূক্ত গীতিকার। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা ৭০০ এর বেশি। ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চের দক্ষ সংগঠক ছিলেন ও তৎকালীন বঙ্গবন্ধু কৃষি পরিষদ পাবনার সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ সময়ব্যাপী। তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ কৃষিতত্ত্ব সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

