বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা অসহায় বুলবুলির ঢোপ দোকান উচ্ছেদ, আদালতে মামলা

নাটোর প্রতিনিধি:
লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কন্যা অসহায়  বুলবুলি খাতুনের অস্থায়ী ঢোপ দোকান উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পৌরসভার গোপালপুর মহল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত রুস্তম আলীর মেয়ে ও বাগাতিপাড়ার কামরুজ্জামানের স্ত্রী। ১৬ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে এবং সে মাসের ২৪ তারিখে নাটোর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়। কিন্তু এখনও সুবিচার পাননি তিনি।
সূত্রে জানা গেছে, বুলবুলির বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাবুর্চি আর স্বামী কাজ করতেন দিনমজুরের। মানুষের বাড়িতে কাজ করে ৪ বোন, ১ ভাই, স্বামী ও ২ সন্তানের সংসার চলতো তার। স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসার, স্বামীর ওষুধ ও সন্তানদের লেখা পড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় প্রতিবেশীদের বুদ্ধিতে ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌর মেয়র এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় মুক্তার জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি (সিবিএম) রাস্তার পাশে অস্থায়ী ছোট ঢোপ দোকান স্থাপন করেন। কিন্তু প্রকাশ্যে বাধ না সাধলেও আড়ালে সে দোকানে তালা মারেন একই মহল্লার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে মতিয়ার রহমান ইউরেন্স(৫০), শান্তিপাড়া এলাকার মৃত মনিরুজ্জামান মনির ছেলে মো. তিতাস(৪৫) এবং মৃত তোসাদ্দেকের ছেলে মো. শামসুল(৫৫)।
ভুক্তভোগী বুলবুলি খাতুন জানান, ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিপক্ষগণ লোহার রড-লাঠি নিয়ে তাকে মারতে আসে। সেসময় স্থানীয়দের সাহায্যে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। তবে তাকে আঘাত করতে না পেরে প্রতিপক্ষগণ সে স্থান ত্যাগ করার সময় তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের যেখানে পাবে সেখানেই মারপিট ও খুন জখমের হুমকি দেয়। এনিয়ে চরম আতঙ্কে আছেন তার পরিবার।
প্রতিপক্ষ মতিয়ার রহমান ইউরেন্স বলেন, কাউকে আঘাতও করেননি আবার হুমকিও দেননি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু সাঈদ বলেন, আমাদের অনুমতি নিয়ে বুলবুলি রাস্তার পাশে অস্থায়ী ঢোপ দোকান বসিয়েছিল, কিন্তু মতিয়ার রহমান, তিতাস এবং শামসুল তার দোকান জোর পূর্বক উচ্ছেদ করেছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, বুলবুলির অসহায়ত্বের কথা শুনেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে যথা সাধ্য সাহায্য করা হবে।
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial