মানুষ যাতে স্বাধীন ভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে পারে সেজন্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে —- ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু

স্টাফ রিপোর্টার \ আওয়ামীলীগ নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু বলেছেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে স্বাধীন ভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে পারে সেজন্য আওয়ামীলীগ সরকার অত্যন্ত সজাগভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পাশাপাশি মুসলমানদের মসজিদ, হিন্দুদের মন্দির, খ্রিস্টানদের গির্জা, বৌদ্ধদের প্যাগোডার উন্নয়নে সবসময় বিভিন্ন ক্যাটাগরীর মাধ্যমে অনুদান দিয়ে থাকে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, শ্মশান আমাদেরই প্রতিষ্ঠান। এগুলোর রক্ষনাবেক্ষন আমাদেরই করতে হবে।
গত ৮ ও ৯ জুলাই বড়ইচারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রেলগেটস্থ মাতৃমন্দির, বাঁশেরবাদার হযরত বেলাল (রহ) জামে মসজিদ, মাহাতাব কলোনী জামে মসজিদ, বাইতুন নূর জামে মসজিদ, শহিদ আমিনপাড়া জামে মসজিদ সহ ঈশ্বরদীর কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোর্টের একটি কোম্পানী প্রদত্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমুহে অনুদানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।


বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সমভাবে উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে। ঈদে যেমন সবাই মিলেমিশে একাকার হই তেমন পুজোতেও সবাই উৎসব করি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশে আমরা সব ধর্মীয় উৎসব একসঙ্গে পালন করি।’ তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন সার্বজনীন উৎসব। ‘আমাদের সংবিধানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন করে যাচ্ছে।’ ধর্মের আড়ালে মসজিদ-মন্দিরকে ব্যবহার করে ধর্ম ব্যবসায়ীরা যেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষতির চিন্তা স্বপ্নেও করতে না পারে সেদিকে সচেষ্ট থাকতে হবে। যদিও জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার আগেই জঙ্গীবাদের শিকর উপড়ে ফেলেছে, তথাপিও আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলা যাবেনা। কেননা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এখনো সক্রিয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলকে এক কাতারে আসতে হবে।
বক্তব্য শেষে তিনি ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার সকল বাসিন্দাদের পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানান।
এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক স্বপন কুমার কুন্ডু, সবুজ কুড়ি কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক কবির আলী হিরু, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের সহ অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত বিশ্বাস, স্ব-কাল বাংলার সম্পাদক মিশুক প্রধান, যুবলীগ নেতা খোমেন বিশ্বাস, ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌশলী ইফতেখাইরুল ইমনসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial