সাবেক এমপি সিরাজ সরদারের সংবাদ সম্মেলন, পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে পুনর্গঠনের দাবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ জরুরিভাবে পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে যারা প্রকৃত বিএনপি করেন তাদের নিয়ে পাবনা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়ে ৭ মার্চ শনিবার ঈশ^রদীর বাঘইলের নিজ বাড়ির উঠোনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পর থেকে গোটা জেলা ব্যাপি বিএনপিতে আওয়ামীলীগ ও জাসদ থেকে আসা সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা করে সম্মানহানি করে বিএনপির ক্ষতি করা হয়েছে এবং এখনও ক্ষতি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাবনা-৪ আসনে নির্বাচন হয়েছে মূলতঃ জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামীলীগের মধ্যে। কারণ দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে এখানে নির্বাচনী কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। তারেক রহমান মনোনয়ন বঞ্চিতদের সাথে নিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্বাচন কালীন সময়ে হাবিব, মূল বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগেই “পাবনা জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করে আমাকে অবমূল্যায়ন করেন। আবার ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটিও করা হয় জাসদ ও আওয়ামীলীগ থেকে আসা নেতাদের সমন্বয়ে। এতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্দ হয়ে পড়েন। পাবনা জেলা বিএনপির মৎস্য সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদারের মুখে থুথু দেওয়ার ঘোষনা দেন। নির্বাচন পরবর্তীতে তিনি ও তার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীদের তালিকা করে মারপিট ও আক্রমন ভাংচুর অব্যাহত রেখেছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠা লগ্নের একজন দায়িত্বশীল সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ও সাবেক নির্বাচিত এমপি হিসেবে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার প্রকৃত বিএনপির নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের চাপের কারণে আমি সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্তির চেষ্টা করি। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে অসংখ্য দোয়া মাহফিল, সভাসমাবেশ, গণসংযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করি। নির্বাচনী মাঠে দলীয় নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার পরও আমি বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও স্মরণ সভায় আমার বক্তব্যে পরিষ্কার করে বলেছি, বিএনপির রক্ত আমার শরীরে প্রবাহিত তাই বিএনপির সাথে বেঈমানী করতে পারিনা, ধানের শীষের বাইরে যেতে পারিনা, যে যেখানে যেটাই করিনা কেন, বেলা শেষে ধানের শীষের সাথেই থাকতে হবে। অথচ দূর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব নির্বাচনী মাঠে এসেই ঘোষনা দিয়েছেন আওয়ামীলীগের ভোটেই আমি নির্বাচিত হবো। তাই তিনি বিএনপি বা বিএনপির ত্যাগীসহ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নূন্যতম সম্মানতো দেখাননি বরং প্রতিটি সভা-সমাবেশে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ নিজেই ধ্বংস করেছেন। মাঠ পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের মতে, হাবিব নির্বাচনে বিএনপিকে দুরে ঠেলে দিয়ে আওয়ামীলীগের উপর ভর করে আওয়ামীলীগের প্রায় ৫৫/৬০ হাজার ভোট পেয়েছেন। শুধু কি তাই? সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় আমার সম্পর্কে অশালিন ভাষায় কটুক্তি মূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি তিনি আমাকে বহিস্কারেরও ঘোষনা দেন। এতে আমার সাথে থাকা বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের হিংসাত্মক ও মারাত্মকভাবে আঘাত প্রাপ্ত করেছেন। টেলিভিশনের টকশোতেও তাকে জুনিয়রদের কাছে নাজেহাল হওয়ার মাধ্যমে বেগম জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে গোটা জাতির সামনে বিএনপিকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন।

সম্প্রতি বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের ঢাকাস্থ গুলশান অফিসে ডেকে স্কাইপিতে ভার্চুয়াল্লি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যারা মনোনয়ন পাবেন তাদের প্রথম কাজ হবে মনোনয়ন বঞ্চিতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করবেন এবং তাদের যথাযত সম্মানের সাথে পরামর্শ বিনিময় পূর্বক সকল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। কিন্তু আমরা কি দেখলাম, তিনি আমার সাথে দেখা করলেন অনেক বিলম্বে। সাক্ষাতে আমি হাবিবকে বললাম আপনি আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদের যেভাবে কাজে লাগাবেন আমরা সেভাবে কাজ করে দেবো। আমাদের কারোরই বিএনপির বিরুদ্ধে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এরপরও তিনি আর আমার বা আমাদের বিএনপি নেতাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করলেন না। ফলে বিএনপি নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের চাপে এবং বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দায়িত্বশীলতার অবস্থান থেকে মনোনয়ন পত্র ক্রয় ও দাখিল করলাম। মনোনয়ন পত্র প্রত্যারের শেষ তারিখের আগের দিন ১৯ ডিসেম্বর সকালে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করি। এই সম্মেলনের বক্তব্যেও আমি বলেছি বিএনপির রক্ত আমার শরীরে প্রবাহিত কাজেই বিএনপির সাথে আমরা বেঈমানী করতে পারিনা, ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে। অথচ তিনি আমার সাথে বা বিএনপি নেতাদের সাথে যোগাযোগ না করে অত্যন্ত সুকৌশলে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই জাসদ ও আওয়ামীলীগ সদস্যদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষনা করে প্রথমেই বিএনপি থেকে আমাদের বাদ দিয়ে দেন। এরপর আমাদের কি করা উচিত আমি বুঝতে পারিনি। এরপরও একটি লাইভ অনুষ্ঠানে আমি ধানের শীষের পক্ষে কথা বলেছি তার পরও তিনি আমাকে বা বিএনপি নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে পারেননি।

২০০১ সালে আমি ধানের শীষের দলীয় মনোনয়ন পাবার পর হাবিবের দলীয় বিভক্তি করণ এবং সৃষ্ট দলীয় কোন্দলের শিকার হই। সেই নির্বাচনের আগে হাবিবুর রহমান হাবিব বিএনপিতে মনোনয়ন না পেয়ে নিজ দলের প্রার্থীকে পরাজিত করার হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য সেই নির্বাচনে হাবিব নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কুড়াল প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আমার ধানের শীষের পরাজয় নিশ্চিত করেন। এই নির্বাচনে হাবিব সেদিন মেডামের নির্দেশও অমান্য করে বলেছিলেন, সিরাজ সরদারের নির্বাচন করতে তিনি পারবেন না।
২০০৮ সালেও তিনি এবং তার পক্ষের জাসদ থেকে আসা বিএনপি নেতারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ধানের শীষের বিরোধীতা করে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করে আমাকে পরাজিত করেন। এমতাবস্থায় পাবনা জেলা বিএনপিকে বিএনপির সঠিক স্থানে অবস্থান করাতে বিএনপির হাইকমান্ড এর দৃষ্টি আকর্ষন করছি। জরুরিভাবে পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে যারা প্রকৃত বিএনপি করেন তাদের নিয়ে পাবনা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করার দাবি জানাচ্ছি।

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial