বিএসআরআইতে আওয়ামীলীগের রাজনীতিকরা ফিরেছে অতীতে// দুটো গ্রুপের দীর্ঘদিনের দূরত্ব মিটলেও গোস্বায় জামায়াত বিএনপি সমর্থিতরা
স্টাফ রিপোর্টার \ গত বছরও রাষ্ট্রীয় দিবস সমুহে ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিকদের এক সাথে অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়নি। অনুষ্ঠান পালন হলেও উচ্ছলতার কমতি চোখে পড়তো সবারই। আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে এমন পরস্পর বিরোধী দুটো গ্রুপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দূরত্ব মিটে যাওয়ায় চলতি বছর দৃশ্যপট ফিরে গেছে তার অতীতে। শিশু ও শোক দিবস, ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতার স্বপক্ষীয়রা নিজেদের অভ্যন্তরীন বিরোধ নিরসন করে এক কাতারে এসে প্রাণোবন্ত হয়ে অনুষ্ঠান করার দৃশ্য সকলের নজর কেড়েছে। এতে দুটো গ্রুপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দূরত্ব মিটলেও গোস্বা করেছে জামায়াত বিএনপি সমর্থিতরা।
গত ৪ বছর আগে জামায়াত-বিএনপির একটি চিহ্নিত চক্র বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামীলীগের শক্তিশালী এই গ্রুপটিকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল।
প্রধান মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান রঞ্জু বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করি, চাকরী করি, রাজনীতি করি। জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যেই দিবা-নিশি কাজ করে যাচ্ছেন। দলের মধ্যে যারা পোড় খাওয়া লোক, পরীক্ষিত লোক এবং বহু অভিমানী কর্মী আছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে নেতৃত্বে বসাতে হবে। যারা দলের জন্য, বিএসআরআই এর জন্য রক্ত, ঘাম, শ্রম এবং যৌবনের সোনালী দিনগুলো উৎসর্গ করেছেন, তাদেরও খোঁজ-খবর রাখা প্রয়োজন।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু তাহের সোহেল বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার মধ্যে দিয়ে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। একই সাথে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। ১৯৭৫ এর পর কারো কারো প্রচেষ্টা ছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার। তখন অনেকে দম্ভ করে বলতেন আওয়ামী লীগ আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারবার দলকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে গেছেন। যারা মনে করতো আওয়ামী লীগ আর কোনদিন ক্ষমতায় যাবে না এবং চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার, তারাই বরং রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। এটাই বাস্তবতা। ঠিক তেমনি বিএসআরআই তেও একটি চক্র মনে করতো ‘আমরা আওয়ামী পরিবারের লোকজনরা সব হারিয়ে যাবো’। তাদের সেই স্বপ্নে বালু পড়েছে। আমরা এক সাথে পথ চলছি এবং চলবো।
ড. জহিরুল ইসলাম (এসএসও) বলেন, ‘জাতির পিতার সোনার বাংলার স্বপ্নকে যিনি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সেই জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে নিজেদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমরা একটি পরিবার হয়ে কাজ করতে চাই। বিএসআরআইকে সু সংগঠিত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
এসএম রেজাউল করিম (এসএসও) বলেন, জামায়াত বিএনপির ঐ চক্রের কেউ কেউ নৌকায় উঠতে চায় বা আওয়ামী লীগ সাজতে চায়। কিন্তু তাদেরকে সঙ্গে নেয়া যাবে না। নেতৃত্বে তারাই থাকবে যারা বিএসআরআই এর জন্য, আওয়ামীলীগের জন্য পরীক্ষিত এবং পোড় খাওয়া। যারা রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা লাভের সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে চায় বা প্রতিপত্তি লাভের সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের স্থান বিএসআরআই আওয়ামী লীগে হতে দিবোনা।
সাইফুল ইসলাম (এসএসও) বলেন, ‘বিএসআরআই একটি পরিবার। যারা এখানে চাকরী করেন, তারা নিজের পরিবারের চেয়েও প্রতিষ্ঠানকে বেশি ভালবাসেন এবং প্রতিষ্ঠানে বেশি সময় দেন। যারা কাজকে ব্রত হিসেবে নিয়ে করেন, তাদের কাছে একজন কর্মীর চাওয়া-পাওয়া বা সমস্যা পরিবারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।’
সঞ্জিত মন্ডল (এসও) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বদলে গেছে। খাদ্য ঘাটতির দেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশ। উত্তরাঞ্চলে আগে মঙ্গা ছিল। মঙ্গা এখন খাতায় ও বই-পুস্তকে থাকলেও বাস্তবে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদীতে ইপিজেড স্থাপন করেছেন, অনেক শিল্প-কারখানা হয়েছে। রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের জন্য ঈশ্বরদী পৃথিবী বিখ্যাত। সেই রকম একটি গুরুত্বপুর্ণ জায়গায় বিএসআরআই এর মতো গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে, আমাদেরও তাকে কিছু দেয়ার আছে।
বিরোধী চক্র প্রতিবছর বলে এবছরই সরকারেকে টেনে নামাবো। নানা ষড়যন্ত্র তারা করছে। এই ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য আমাদের ঐক্য-সংহতি বজায় রাখতে হবে। যেখানে সেখানে একে অপরের সমালোচনা করা সমীচিন নয়। সমালোচনা হবে অভ্যন্তরীণ ভাবে জনসম্মুখে নয়।
শফিকুল ইসলাম (এসও) বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো প্রতিপক্ষই আমাদের বিজয় ঠেকাতে পারবে না। আমাদেরকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না, যদি না নিজেরা নিজেদের পরাজিত করি। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের ঐক্যই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রাশেদুল ইসলাম পাভেল (এসও) বলেন, বিএসআরআই তে যারা প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি নষ্ট করছে। তারা সফল হবে না। ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার ছাড়া তাদের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। ঐক্যবদ্ধ আমরা যেকোনো অপশক্তিকে রুখে দিতে পারি।
এএম সাজেদুর রহমান (এসও), সানোয়ার হোসেন (এসও), রাশেদুর রহমান রাজিব (এসও), আবু সাইদ (এসও) সহ অন্যান্য বিজ্ঞানীগণ ঐক্যতায় সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইনশাআল্লাহ্ আগামীদিনে আমাদের তথা নৌকার বিজয়রথ চলমান থাকবে।

