নাটোরে এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদুল খুনের রহস্য উদঘাটন
নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তারাবিবৃতিতে বলেছেন এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল মোট ছয় জন। এর মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বাকি দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই ছাত্রের কিশোরী প্রেমিকাকে রাজশাহীর সেফ কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরীর বাবা, ভাই ও খালাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাগাতিপাড়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, গত ২৮ আগস্ট (রবিবার) সকালে বাগাতিপাড়ার কালারা বিল থেকে পীরগঞ্জ হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী উপজেলার কাকফো এলাকার রাশেদুল ইসলাম রাশুর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (১৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘ তিন বছর এক কিশোরীর সঙ্গে প্রেম ছিল তার। তিনি জানান, রবিবার রাতেই নিহতের মা জাহেদা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর নিহতের প্রেমিকা নবম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে তার বয়স
বিবেচনায় সেফ কাস্টডিতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা কামাল জানান, অভিযান চালিয়ে কিশোরীর কলেজ পড়ুয়া ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বাড়িতে আসে জাহিদুল। তার মা তাকে বিষয়টি জানানোর পর সে তার খালাকে জানায়। এরপর ওই খালা তার ছেলেকে নিয়ে তার বাড়িতে আসে। বোনের ঘরে প্রবেশ করে জাহিদুলকে দেখে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এরপর দুর্বল হলে ঘরে থাকা রশি দিয়ে জাহিদুলের গলায় ফাঁস দিয়ে টেনে ধরে। এসময় তার মা, বাবা, খালা ও খালাতো ভাই জাহিদুলকে ধরে রাখে। ওই ছেলে নিস্তেজ হওয়ার পর তারা স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসককে ডাকলে তিনি জানান, মারা গেছে।
এসআই মোস্তফা কামাল আরও জানান, রাত ১২টার দিকে তারা সবাই মিলে লাশ ওই বিলে ফেলে যায়। কিশোরীর ভাইয়ের দেওয়া তথ্যমতে তাদের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এরপর কিশোরীর বাবা ও খালাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে আদালত ওই তিন জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। কিশোরীর ভাই ও বাবা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

