ঈশ্বরদীতে জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টারঃ ডিবি পুলিশ পাবনা ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্যকর ঈশ্বরদী থানার ভবানীপুর গ্রামের দাদি ও নাতনি দ্বয়কে নৃশংসভাবে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও ১ জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ভাষ্যমতে, মামলার বাদিনী মর্জিনা খাতুন (৫৩) তার পিতার মৃত্যুর পর বাদীর মা ভিকটিম সুফিয়া খাতুন (৬৫) বাদিনীর ভাই জয়নাল আবেদীন এর বাড়িতে বসবাস করে। বাদিনীর ভাই জয়নাল এর স্ত্রী না থাকায় বাদিনীর মা অপর ভিকটিম জামিলা আক্তার সেতু (১৫) সহ বাদিনীর ভাই (অর্থ্যাৎ ভিকটিম জামিলা আক্তার সেতু পিতার বাড়িতে) বসবাস করে। ভিকটিম জামিলা আক্তার সেতু (১৫) কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার ১০ শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। ভিকটিম সেতু এর পিতা ঢাকাতে কাজ করে। ভিকটিম সেতু’র পিতা বাড়িতে না থাকায় সেতু ও তার দাদি (সুফিয়া খাতুন) একা বসবাস করে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত্রী আনুমানিক ৯টার সময় ভিকটিম সেতু ও তার দাদি (সুফিয়া খাতুন) প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমিয়ে পড়েন। ইং-২৭/০২/২০২৬ তারিখ রাত্রী আনুমানিক ০৯:০০ ঘটিকা হতে ইং-২৮/০২/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৮:০০ ঘটিকার মধ্যে যেকোন সময় অজ্ঞাতনামা কে বা কারা বাদিনীর মা ভিকটিম সুফিয়া খাতুন (৬৫) কে ধারালো অস্ত্র দ্বারা গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করতঃ লাশ বাড়ী গেটের সামনে ফেলে রাখে এবং বাদিনীর ভাতিজি অপর ভিকটিম জামিলা আক্তার সেতু (১৫) কে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ করতঃ নৃশংসভাবে হত্যা করে ঈশ্বরদী থানাধীন আল্লাদী মৌজাস্থ জনৈক মোঃ হারুন মুন্সি এর গম ক্ষেতের পূর্ব-পশ্চিমে আইলের উপর বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ ফেলে রেখে দূর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঈশ্বরদী থানার মামলা নং-০১, তাং- ০১/০৩/২০২৬ ইং, ধারা-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭/৯(৩)/৩০ তৎসহ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ এর দিক-নির্দেশনায় রেজিনূর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পাবনা এর সার্বিক তত্বাবধানে ঈশ্বরদী সার্কেল সহ ওসি ডিবি এবং অফিসার ইনচার্জ ঈশ্বরদী থানা, পাবনা এর নেতৃত্বে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ)/বেনু রায়, পিপিএম, সঙ্গীয় এসআই (নিঃ)/অসিত কুমার বসাক উক্ত হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সোর্স এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত আসামী সনাক্ত করে শরিফুল ইসলাম (৩০), পিতা-মোঃ মোফাজ্জল, সাং-কালিকাপুর, থানা-ঈশ্বরদী, জেলা-পাবনাকে তার নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী শরিফুল ইসলাম (৩০)কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, ভিকটিম সুফিয়া খাতুন (৬৫) তার আপন খালা। সে তার খালা সুফিয়া বাড়িতে মাঝে-মধ্যে যাতায়াত করতো। যাতায়াতের সুবাদে আসামীর ভিকটিম সুফিয়া নাতনি অপর ভিকটিম জামিলা আক্তার সেতুর প্রতি কু-দৃষ্টি পড়ে। ঘটনার দিন আসামী রাত্রি আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় আসামী উক্ত বাড়িতে প্রবেশ করলে ভিকটিম সুফিয়া খাতুন বুঝতে পেরে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে আসামী রাগান্বিত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে ভিকটিম সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করলে ভিকটিম মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে আসামী ঘরের ভিতরে গিয়ে অপর ভিকটিম সেতুকে জড়িয়ে ধরলে সে চিৎকার করলে আসামী বাঁশের খাটি ও হাতুরী দিয়ে আঘাত করলে ভিকটিম সেতু অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ভিকটিম সেতুকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যেতে থাকে। বাড়ির পাশের পুকুরের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় আসামী ও ভিকটিম সেতু উভয়েই উক্ত পুকুরে পড়ে যায়। তারপর ভিকটিম সেতুকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিমের পড়নের পায়জামা খুলে যায়। ভিকটিমকে গম ক্ষেতের দিকে নেওয়ার পথিমধ্যে (নির্মানাধীন বাড়ির পাশে) ভিকটিমের জ্ঞান ফিরলে সে চিৎকার করলে আসামী ভিকটিমকে হাতুড়ী দিয়ে পুনরায় আঘাত করে ভিকটিম টেনে হেঁচড়ে গম ক্ষেতের আইলে নিয়ে গিয়ে ভিকটিমের পড়নের জামা খুলে তাকে ধর্ষণ করে সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে চলে যায়।
একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের খাটি, একটি কাঠের বাটাম ও আসামীর ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial