দামটা প্রকাশ্যে বললেই তো হয়, ইনবক্সে ডাকে কেন?
বাংলা ডেস্ক: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তক পণ্যের কেনাবেচার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সময় বাঁচাতে অনেকেই ঝুঁকছেন অনলাইন কেনাকাটায়। অনলাইনে যারা পণ্য বিক্রি করেন, তাদের প্রচারণার অন্যতম মাধ্যম সোশ্যাল হ্যান্ডেল। তারা নিজস্ব ব্রান্ডের পেজ থেকে পণ্য গ্রাহকদের সামনে উপস্থাপন করে থাকেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পণ্যের দাম প্রকাশ্যে বলেন না।
গ্রাহক হিসেব আপনি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে কোনও পণ্যের পোস্টে কমেন্ট করলেন—“দাম কত?” জবাব আসে এক লাইনে: “ইনবক্সে আসুন প্লিজ।” প্রশ্নটা তখনই মাথায় ঘোরে—দামটা প্রকাশ্যে বললেই তো হয়, ইনবক্সে ডাকছে কেন?
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইনবক্সে ডাকার পেছনে কেবল গোপনীয়তা নয়, আরও কয়েকটি কৌশলগত কারণ রয়েছে।
প্রতিযোগিতা এড়াতে
অনেক বিক্রেতার দাবি, প্রকাশ্যে দাম লিখলে প্রতিদ্বন্দ্বী পেজগুলো সহজেই তা দেখে কম দামে একই পণ্য অফার করতে পারে। বাজারে একই ধরনের পণ্যের অসংখ্য সরবরাহকারী থাকায় ‘প্রাইস আন্ডারকাটিং’ বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দাম ইনবক্সে জানানোকে তারা প্রতিযোগিতা সামাল দেওয়ার উপায় হিসেবে দেখেন।
গ্রাহক ধরে রাখার কৌশল
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনবক্সে কথা শুরু মানে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ। একবার গ্রাহক মেসেজ দিলে তার সঙ্গে আলাপ বাড়ানো, অন্য পণ্য দেখানো বা অফার দেওয়া সহজ হয়। এতে বিক্রির সম্ভাবনা বাড়ে। অনেকেই এটিকে “লিড জেনারেশন” কৌশল বলেন।
ভিন্ন গ্রাহকে ভিন্ন দাম?
কিছু ক্ষেত্রে একই পণ্যের দাম গ্রাহকভেদে বদলানোর অভিযোগও আছে। নিয়মিত ক্রেতা, পাইকারি অর্ডার বা দূরবর্তী ডেলিভারির ক্ষেত্রে দাম আলাদা হতে পারে—এ যুক্তি দেখান বিক্রেতারা। তবে ভোক্তা অধিকারকর্মীদের মতে, এক পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন গোপন দাম স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করে।
অ্যালগরিদমের হিসাব
ফেসবুকের অ্যালগরিদমে বেশি কমেন্ট ও ইনবক্স মানে বেশি ‘এনগেজমেন্ট’। এতে পোস্টের প্রচার বাড়ে। তাই অনেক পেজ ইচ্ছাকৃতভাবে দাম না লিখে কমেন্ট বাড়ানোর চেষ্টা করে। অনেকের মতে, “দাম ইনবক্সে” লেখা পোস্টে সাধারণত বেশি সাড়া পাওয়া যায়।
ভোক্তার অসন্তোষ
তবে গ্রাহকদের বড় একটি অংশ এই প্রথায় বিরক্ত। তাদের যুক্তি, প্রকাশ্যে দাম না থাকলে তুলনা করা কঠিন হয়, সময় নষ্ট হয়। অনেকেই মনে করেন, স্বচ্ছ মূল্যতালিকা না থাকলে বিশ্বাসযোগ্যতা কমে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্যের স্পষ্ট মূল্য উল্লেখ করা হলে গ্রাহকের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় এবং বিভ্রান্তি কমে। এতে বাজারে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়।
সমাধান কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পণ্যের নির্ধারিত মূল্য পোস্টে উল্লেখ করে প্রয়োজনে ডেলিভারি চার্জ, কাস্টমাইজেশন বা অফারের বিষয় আলাদা করে জানানো যেতে পারে। এতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, আবার গ্রাহকের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের সুযোগও নষ্ট হয় না।
অনলাইন বাণিজ্য এখন আর ছোটখাটো বিষয় নয়; এটি বড় অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। তাই আস্থা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা—এই তিনের সমন্বয়েই টেকসই বাজার গড়ে উঠতে পারে। আর গ্রাহকের প্রশ্নের সহজ উত্তর হয়তো খুব কঠিন কিছু নয়—দাম জানতে চাইলে, দামটাই বলুন।

