রংপুরে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ, হামলার অভিযোগ আখতারের
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ, পীরগাছা এবং রংপুর-৬ আসনের পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় সড়ক অবরোধ করেন তারা। রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে প্রশাসনের সহায়তায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করার অভিযোগ করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে গভীর রাত পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ করেন।
অন্যদিকে, রংপুর-৪ আসনের বিজয়ী প্রার্থী এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন শুক্রবার রাতে রংপুর নগরীর জুলাই চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন। তার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা করে অনেককে আহত করা এবং হারাগাছসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার দাবি করেন, মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করা হচ্ছে। কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা ও দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তবে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এনসিপি প্রার্থীর ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিবাদ করায় আখতার হোসেন পরিকল্পিতভাবে নানান কথা বলে জনগণের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করছেন। আমার ও জনগণের দাবি, রংপুর-৪ আসনের ভোট পুনর্গণনা করতে হবে। এটা না করলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এদিকে, বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় চলছে। ভরসা বলেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। ৮-১০ হাজার ভোট বাতিল করিয়েছেন এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন। ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন অনেক ভোটকেন্দ্র থেকে আমার পুলিশ এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে’ বলে অভিযোগ করে বলেন, কমপক্ষে ২০টি ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের ভোট শাপলা কলি মার্কায় দেখিয়ে তাকে জয়ী দেখানো হয়েছে। ‘এই জালিয়াতির ফলাফল আমি মানি না, ভোট পুনর্গণনা করতে হবে’ বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করেন, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এনামুল আহসানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি দেখা করেননি। জেলা প্রশাসকই ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হোতা বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে, শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত রংপুর-৪ আসনের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী-সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তারা রংপুর হারাগাছ সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটান হারাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ রংপুর হারাগাছ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
অপরদিকে, একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুনর্গণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও রাত পর্যন্ত গভীর বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনার দাবি জন্য দাবি জানান।
বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন অন্তত ৪০টি ভোটকেন্দ্রে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন জামায়াত প্রার্থী নুরুল আলম। ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই ২ হাজার ভোটে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। পরাজিত দেখানোর জন্য ধানের শীষের সিল দেওয়া ৫ হাজারের বেশি ব্যালট পেপার বাতিল করা হয়েছে। ভোট পুনর্গণনা না করা হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রংপুর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।

