সার্কুলেশনের ওপর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের সংখ্যা নির্ধারণের বিধান বাতিলের সুপারিশ

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

আজাদ মজুমদার বলেন, অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়ার বিষয়ে নীতিমালা সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আশা করছি যে, কাজটি শেষ হবে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সবাইকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়া হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন কার্ড দেওয়া হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান কার্ডগুলো সেগুলোর কার্যকারিতা বহাল থাকবে।

আজাদ মজুমদার বলেন, এই নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারের উন্নয়ন প্রচার করার শর্ত নীতিমালায় ছিল। আমরা এই শব্দগুচ্ছ বাতিল করার সুপারিশ করছি। কারণ আমরা মনে করি, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এটি একটি পরিপন্থি কাজ। সাংবাদিকরা তাদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করবেন, এক্ষেত্রে সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, এতে আমরা বিশ্বাস করি। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আমরা সুপারিশ করবো। কারণ অতীতে নীতিমালার ধারা ব্যবহার করে যারা সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত না, এটিকে অপব্যবহার করে তারা কার্ড নিয়েছেন। কার্ড নিয়ে তার যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন। তাতে প্রকৃত সাংবাদিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের জন্য যে ধারা আছে, সেটি বাতিল করে কিছুটা সংশোধনী আনার সুপারিশ করবে। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য অন্তত ২০ বছর সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকবে হবে, অথবা সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন যেমন- ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া বিদ্যমান নীতিমালায় বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রধান তথ্য অফিসারের কাছে অবহিত করে যাওয়ার বিধান আছে, সেটি অপমানজনক। যদিও বাস্তবে খুব বেশি প্রয়োগ আমরা দেখিনি, তারপরও আমরা মনে করি, এই ধারা থাকা উচিত না। আমরা মনে করি যে, সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এধরনের কোনও বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত না। এই ধারাও বাতিল করার সুপারিশ করা হবে।  অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করার বিধান এতদিন প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কাছে নিয়োজিত ছিল, এই দায়িত্ব সরকার একটি কমিটির হাতে দিতে চায়। এই কমিটিতে প্রধান তথ্য কর্মকর্তাও  থাকবেন, আরও যারা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি, সম্পাদকদের প্রতিনিধি, টেলিভিশনের সাংবাদিকদের প্রতিনিধি, অনলাইন সাংবাদিকদের প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটি কার্ড ইস্যু এবং বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এই কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করারও সুযোগ থাকবে।

আজাদ মজুমদার জানান, জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্যও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু করার জন্য নতুন নীতিমালায় কিছু বিধিবিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হবে। যাতে করে জেলা পর্যায়ে আলাদা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু করা হয়। আরেকটা বিষয় হচ্ছে— নতুন নীতিমালায় অস্থায়ী ও স্থায়ী কার্ড রাখার পক্ষপাতি নয় অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা এটা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে সুপারিশ পেয়েছিলাম। সেই কার্ডের মেয়াদ হবে কমপক্ষে তিন বছর। তাদের সুপারিশ সরকার গ্রহণ করেছে। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালায় বলা আছে— কোনও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হলেই কার্ড বাতিল করার সুযোগ আছে, এই ধারা সংশোধন করে এমনভাবে করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হন সেক্ষেত্রে স্থগিত এবং পরবর্তীকালে সাজাপ্রাপ্ত হলে সয়ংক্রিয়ভাবে তার কার্ড বাতিল করার সুপারিশ করা হচ্ছে।
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial