৬০ বছরে ৬ বন্ড, সেরা কে
‘বন্ড…জেমস বন্ড’- হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় সংলাপ হয়তো এটাই। গান পয়েন্টে কাউকে রেখে, কিংবা মদের পেয়ালা হাতে কোনও নারীর সামনে এ সংলাপ দিতে দেখা গেছে বহুজনকে।
‘জেমস বন্ড-০০৭’ সিরিজ সম্ভবত সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় সিরিজের মধ্যে একটি। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্টি এই ব্রিটিশ এজেন্ট তার ক্যারিশমাটিক কাণ্ডে আজও বুঁদ করে রেখেছেন ভক্তদের।
ক্ষুরধার বুদ্ধি, অদম্য সাহস, পাথুরে মন এবং সবরকমের অস্ত্রে চালানো নিপুণ এই ‘এমআই সিক্স’এর গোয়েন্দা।
গত ষাট বছর ধরে বড়পর্দায় ‘বন্ড’ ভূমিকায় হাজির হয়েছেন ৬ জন। প্রত্যেকই পেয়েছেন জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত চূড়া। তবে শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, বাণ্যিজিকভাবেও তারা বক্স অফিস কাঁপিয়ে দিয়েছেন।
সিরিজগুলোর ছবি মুক্তির সময় অন্যরাও তাই নিজেদের গুটিয়ে নিতেন- সে নজিরও আছে।
তবে অন্যরা নন, জেমস বন্ডের মধ্যে কে কাকে ছাড়িয়ে গেলেন- সে হিসাবও হয়। বক্স অফিসের সে ফর্দ ঘাঁটলে দেখা যায়, সেরা হলেন ড্যানিয়েল ক্রেগ। যদিও অনেকেই সফলতার দিক থেকে এগিয়ে রাখেন ‘ক্যাসিনো রয়েলের’ কথা, কিংবা হয়তো ভাবছেন ‘থান্ডারবল’ বা ‘গোল্ডফিঙ্গার’। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির সব কিছু হিসাবে নিলে শীর্ষস্থানে আছে ড্যানিয়েল ক্রেগের ‘স্কাইফল’। ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত এ সিনেমাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় বক্স অফিস থেকেই আয় করে ৩০৪ মিলিয়ন ডলার! দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমা ‘স্পেক্টর’র আয় ২০০ মিলিয়ন। তৃতীয় অবস্থানে ‘কোয়ান্টাম অব সোলেস’ ১৬৮ মিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক বক্স অফিসেও প্রথম দুটি চূড়ান্ত রকমের সফল। মুক্তির সময়ই ১.১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কামিয়েছে ‘স্কাইফল’। আর ‘স্পেক্টর’র আয় ৮৭৯ মিলিয়ন ডলার।
তৃতীয় অবস্থানে আছে ‘ক্যাসিনো রয়্যাল’- ৫৯৪ মিলিয়ন ডলার।
সবমিলিয়ে জেমস বন্ডের প্রথম বিলিয়ন ছবি ‘স্কাইফল’। আর গত ২৬টি কিস্তি মিলিয়ে এ সিরিজের মোট সম্পদ ৭ বিলিয়ন ডলার। যা আয় করা বিশ্বের অন্যান্য সিরিজের মধ্যে জেমস বন্ড আছে পঞ্চম অবস্থানে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া জেমস বন্ড হিসেবে ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ ছবি ‘নো টাইম টু ডাই’ও বেশ ভালো করছে। তবে এর চূড়ান্ত সফলতা এখনই জানানো সম্ভব নয়। এবার দেখে নেওয়া যাক সিরিজের অন্যান্য ছবির হালহকিকত।
২০২০ সালে ফোর্বস প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আমেরিকায় ছবিগুলোর আয়ের তালিকা-
স্কাইফল (৩০৪ মিলিয়ন)
স্পেক্টর (২০০ মিলিয়ন)
কোয়ান্টাম অব সোলেস (১৬৮ মিলিয়ন)
ক্যাসিনো রয়্যাল (১৬৭.৪ মিলিয়ন)
ডাই অ্যানাদার ডে (১৬০.৯ মিলিয়ন)
দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট অ্যানাফ (১২৬.৯ মিলিয়ন)
টুমরো নেভার ডাই (১২৫.৩ মিলিয়ন)
গোল্ডেনআই (১০৬.৪ মিলিয়ন)
মুনরেকার (৭০.৩মিলিয়ন)
অক্টোপসি (৬৭.৯ মিলিয়ন)
থান্ডারবল (৬৩.৬মিলিয়ন)
নেভার সে নেভার এগেইন (৫৫.৪ মিলিয়ন)
ফর ইয়োর’স আইস ওনলি (৫৪.৮ মিলিয়ন)
লিভিং ডে লাইট (৫১.২ মিলিয়ন)
গোল্ডফিঙ্গার (৫১.১ মিলিয়ন)
আ ভিউ টু কিল (৫০.২ মিলিয়ন)
দ্য স্পাই হু লাভড মি (৪৬.৮মিলিয়ন)
ডায়মন্ডস আর ফরএভার (৪৩.৮ মিলিয়ন)
ইউ অনলি লাইভ টোয়াইস (৪৩.১ মিলিয়ন)
লাইভ অ্যান্ড লেট ডাই (৩৫.৪ মিলিয়ন)
লাইসেন্স টু কিল (৩৪.৭ মিলিয়ন)
ফ্রম রাশিয়া উউথ লাভ (২৪.৮ মিলিয়ন)
অন হার ম্যাজেস্ট্রি’র সিক্রেট (২২.৮ মিলিয়ন)
ক্যাসিনো রয়্যাল (২২.৭ মিলিয়ন)
দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান (২১ মিলিয়ন)
ড. নো (১৬.১ মিলিয়ন)
২০২০ সালে ফোর্বস প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সারাবিশ্বে ছবিগুলোর আয়ের তালিকা-
স্কাইফল (১.১১১ বিলিয়ন)
স্পেক্টর (৮৭৯.৬ মিলিয়ন)
ক্যাসিনো রয়্যাল (৫৯৪.৪ মিলিয়ন)
কোয়ান্টাম অব সোলেস (৫৯১.৭ মিলিয়ন)
ডাই অ্যানাদার ডে (৪৩১.৯ মিলিয়ন)
দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট অ্যানাফ (৩৬১.৭ মিলিয়ন)
গোল্ডেনআই (৩৫৬.৪ মিলিয়ন)
টুমরো নেভার ডাই (৩৩৯.৫ মিলিয়ন)
মুনরেকার (২১০ মিলিয়ন)
ফর ইয়োর’স আইস ওনলি (১৯৫.৩ মিলিয়ন)
দ্য লিভিং ডে লাইট (১৯১.২ মিলিয়ন)
অক্টোপসি (১৮৭.৫ মিলিয়ন)
দ্য স্পাই হু লাভড মি (১৮৫.৪ মিলিয়ন)
লাইভ অ্যান্ড লেট ডাই (১৬১.৮ মিলিয়ন)
নেভার সে নেভার এগেইন (১৬০ মিলিয়ন)
লাইসেন্স টু কিল (১৫৬.৩ মিলিয়ন)
আ ভিউ টু কিল (১৫২.৬ মিলিয়ন)
থান্ডারবল (১৪১.২ মিলিয়ন)
গোল্ডফিঙ্গার (১২৪.৯ মিলিয়ন)
ডায়মন্ডস আর ফরএভার (১১৬ মিলিয়ন)
ইউ অনলি লাইভ টোয়াইস (১১১.৬ মিলিয়ন)
দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান (৯৭.৬ মিলিয়ন)
অন হার ম্যাজেস্ট্রি’র সিক্রেট (৮২ মিলিয়ন)
ফ্রম রাশিয়া উউথ লাভ (৭৮.৯ মিলিয়ন
ড. নো (৫৯.৬ মিলিয়ন)
ক্যাসিনো রয়্যাল (৪১.৭ মিলিয়ন)

